ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতোই মাঠের বাইরেও নিজের স্টাইল দিয়ে নজর কাড়তে জানেন লামিন ইয়ামাল। ১৯তম জন্মদিনের উদযাপনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গোলাপি থিমে সাজানো তারকাখচিত ‘পিঙ্ক পার্টি’তে পোশাক থেকে শুরু করে পুরো আয়োজনেই ছিল তারুণ্য, বিলাসিতা আর আধুনিক ফ্যাশনের ছাপ।
স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান ও ছুটি শেষে ইয়ামাল আয়োজন করেন বহু প্রতীক্ষিত জন্মদিনের অনুষ্ঠান। বার্সেলোনার বাইরে ভিলানোভা দেল ভ্যালেসের ঐতিহাসিক মাস দে সান্ট লেই এস্টেটে বসেছিল এই বিশেষ আসর। অতিথিদের জন্যও ছিল নির্দিষ্ট ড্রেস কোড-গোলাপি। ফলে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে যেন গোলাপি রঙের এক ফ্যাশন শো।
ইয়ামালের পোশাকে ছিল পার্টি-উপযোগী আধুনিকতার ছাপ। অতিরিক্ত জাঁকজমকের বদলে তার লুকে প্রাধান্য পেয়েছিল তারুণ্যের স্টাইল।
গোলাপি রংকে কেন্দ্র করে সাজ তৈরি হওয়ায় পোশাকেও ছিল নরম, উৎসবমুখর আবহ। তারুণ্যের সঙ্গে মানানসই এই ধরনের পার্টি লুক এখনকার পুরুষদের ফ্যাশনে বেশ জনপ্রিয়-আরামদায়ক কাট, হালকা রঙ এবং স্মার্ট পার্টি-স্টাইলের সমন্বয়ই যেখানে মূল কথা।
পার্টির থিমের সঙ্গে মিলিয়ে ইয়ামালের বান্ধবী ইনেস গার্সিয়াও বেছে নিয়েছিলেন গোলাপি পোশাক। তার সাজে ছিল পার্টি গ্ল্যামারের স্পষ্ট ছাপ।
ছবিতে দেখা যায়, ঝলমলে গোলাপি পোশাকে তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। পোশাকের উজ্জ্বলতা, শরীরঘেঁষা সিলুয়েট এবং মিনিমাল গয়নার সমন্বয় লুকটিকে করেছে আধুনিক ও পার্টি-রেডি।
গোলাপি পোশাকের সঙ্গে ভারী গয়না না বেছে পরিমিত অলংকার ব্যবহারের প্রবণতাই ছিল বেশি নজরকাড়া। এমন লুকে পোশাক নিজেই যখন ফ্যাশনের ভাষা তখন অতিরিক্ত গয়না পুরো সাজকে ভারী করে দিতে পারে।
তাই ছোট আকারের কানের দুল, আংটির মতো অলংকারই এই ধরনের পার্টি লুককে আরও পরিশীলিত করে।
১০০ জনের বেশি অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিলেন ইয়ামালের কয়েকজন বার্সেলোনা সতীর্থও। তাদের উপস্থিতি পার্টিটিকে আরও জমজমাট করে তোলে। সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা, গোলাপি সাজসজ্জা এবং অতিথিদের ফ্যাশন মিলে রাতটি হয়ে ওঠে একেবারে তারকা-সমৃদ্ধ আয়োজন।
একসময় পুরুষদের পার্টি ফ্যাশনে কালো, সাদা কিংবা নেভি রংই ছিল নিরাপদ পছন্দ। এখন সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। প্যাস্টেল পিঙ্ক, বেবি পিঙ্ক কিংবা উজ্জ্বল পিঙ্ক-পুরুষদের পার্টি পোশাকেও জায়গা করে নিচ্ছে এই রং। ইয়ামালের জন্মদিনের থিমও সেই পরিবর্তনশীল ফ্যাশনেরই একটি উদাহরণ।
এই পার্টির বিশেষত্ব শুধু জন্মদিনের আয়োজন কিংবা তারকাদের উপস্থিতিতে নয়। পুরো অনুষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট রঙের নান্দনিকতার মধ্যে নিয়ে আসাই ছিল এর বড় আকর্ষণ।
পোশাক, সাজসজ্জা, ছবি ও পার্টির আবহ-সবকিছুতেই গোলাপির উপস্থিতি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।তৈরি করেছে।
গত বছরের জন্মদিন ঘিরে নানা আলোচনা থাকলেও এবারের আয়োজন ছিল তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত আনন্দ, বন্ধু, পরিবার, সতীর্থ, সংগীত ও ফ্যাশনকে ঘিরে। আর গোলাপি রঙে মোড়া সেই রাত প্রমাণ করল, ফুটবল মাঠের বাইরেও ইয়ামালের প্রজন্মের ফ্যাশন কতটা বদলে গেছে।
এসএকেওয়াই