মেহেরপুর শহরের তিনটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লাল স্কচটেপে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু ঝুলতে দেখে বোমা–আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ শনিবার সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে এসব বস্তু দেখা যায়। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, এগুলো বোমা বা বিস্ফোরক নয়, সাধারণ সাউন্ডবক্স।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লাল স্কচটেপে মোড়ানো একটি বাক্স ঝুলতে দেখা যায়। পলিথিন দিয়ে বাক্সটি ঢাকা ছিল। বাক্সটির সঙ্গে তার ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম যুক্ত থাকায় সেটিকে বোমা মনে করেন স্থানীয় লোকজন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে ও এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়।
উদ্ধার করা সাউন্ডবক্স। শনিবার সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেখবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাক্সটি নিচে নামিয়ে একটি বালতির পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। একই সঙ্গে ব্যাটারির তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে বাক্সটির আবরণ খুলে দেখা যায়, ভেতরে কোনো বিস্ফোরক নেই, সেটি একটি সাউন্ডবক্স।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পর কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটিতেও একই ধরনের দুটি বাক্স ঝুলিয়ে রাখার খবর পায় পুলিশ। সেগুলোও উদ্ধার করা হয়। তিনটি বাক্সই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝোলানো একটি বাক্স থেকে উচ্চ শব্দে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে শুরু করে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে বাক্সটি উদ্ধার করে।
উদ্ধার করার পর বাক্সটি বালতির পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। শনিবার সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেঘটনাটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেন মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার হওয়া বাক্সগুলোতে কোনো বিস্ফোরক বা বোমা–জাতীয় কিছু ছিল না। কৌতূহল তৈরি কিংবা বিভ্রান্তি ছড়াতে কে বা কারা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সাউন্ডবক্সগুলো ঝুলিয়ে রেখেছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান শুরু করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।