শহর কিংবা মহাসড়কে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য রাস্তা কাটার ঘটনা এখন বেশ পরিচিত। কখনো পানির লাইন, কখনো গ্যাস বা বিদ্যুতের সংযোগ, আবার কোথাও ড্রেনেজ কিংবা সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। কাজ শেষে অনেক সময় রাস্তা আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা হয় না।

কোথাও তৈরি হয় বড় গর্ত, কোথাও রাস্তার একাংশ উঁচু-নিচু হয়ে থাকে। বৃষ্টির পানি জমে গেলে এসব খানাখন্দ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকলে গাড়িচালকদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এমন রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।

গতি কমিয়ে গাড়ি চালান

রাস্তা কাটা বা খানাখন্দযুক্ত এলাকায় গাড়ির গতি যত কম থাকবে, নিয়ন্ত্রণ তত বেশি থাকবে। বেশি গতিতে চলার সময় সামনে হঠাৎ গর্ত দেখা দিলে ব্রেক করেও গাড়ি সামলানো কঠিন হতে পারে। তাই এমন এলাকায় প্রবেশের আগেই গতি কমিয়ে আনুন। প্রয়োজন হলে প্রথম বা দ্বিতীয় গিয়ারে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন

বর্ষাকালে সত্যিই কি গাড়ির মাইলেজ কমে যায়?

দূরত্ব বজায় রাখুন

সামনের গাড়ির একেবারে কাছাকাছি থেকে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। সামনে থাকা গাড়ি হঠাৎ গর্ত এড়িয়ে একদিকে চলে গেলে আপনার সামনে পর্যাপ্ত সময় নাও থাকতে পারে। তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। এতে সামনে থাকা গাড়ির গতিবিধি বুঝে নিজের গাড়ির দিক পরিবর্তন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

পানিভর্তি গর্তকে হালকা করে দেখবেন না

বৃষ্টির পর রাস্তার গর্তে পানি জমে গেলে সেটির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়। বাইরে থেকে অল্প পানি মনে হলেও নিচে বড় গর্ত থাকতে পারে। তাই পানিভর্তি অংশ দিয়ে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে বিকল্প পথ বেছে নিন। অন্য কোনো গাড়ি নিরাপদে সেই অংশ পার হলে তার গতিবিধি দেখেও পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

হঠাৎ ব্রেক না করে সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন

গর্ত সামনে দেখে হঠাৎ জোরে ব্রেক করলে পেছনের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভেজা রাস্তায় আকস্মিক ব্রেক করলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই সামনে রাস্তার অবস্থা খারাপ দেখলে আগে থেকেই গতি কমিয়ে আনুন। গর্তের একেবারে কাছে গিয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগেই নিরাপদ পথ ঠিক করুন।

রাতে হেডলাইটের ব্যবহার ঠিক রাখুন

রাতে রাস্তা কাটা বা খানাখন্দের ঝুঁকি আরও বেশি। তাই গাড়ির হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর ঠিকঠাক কাজ করছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন ছাড়া হাই বিম ব্যবহার না করে এমন আলো ব্যবহার করুন, যাতে সামনে রাস্তার গর্ত ও অন্যান্য যানবাহন স্পষ্ট দেখা যায়।

রাস্তার সতর্কতামূলক চিহ্ন খেয়াল করুন

অনেক সড়ককাজের এলাকায় বাঁশ, ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা লাল বাতি দেওয়া থাকে। এগুলো উপেক্ষা করে দ্রুত পাশ কাটানোর চেষ্টা করবেন না। ব্যারিকেডের বাইরে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নির্মাণস্থলে পড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন

বর্ষায় গাড়িতে এসি চালাবেন নাকি বন্ধ রাখবেন?

গাড়ির টায়ার ও সাসপেনশন পরীক্ষা করুন

খানাখন্দের রাস্তায় নিয়মিত গাড়ি চালালে টায়ার, রিম ও সাসপেনশনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই টায়ারের বাতাসের চাপ ঠিক আছে কি না এবং টায়ারে ক্ষয় বা ফাটল রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক শব্দ বা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে পরিবর্তন অনুভূত হলে দ্রুত গাড়ি পরীক্ষা করানো ভালো।

পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের খেয়াল রাখুন

রাস্তা কাটা থাকলে অনেক সময় গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পথচারী সবাই একই সরু অংশ দিয়ে চলাচল করে। ফলে হঠাৎ কেউ সামনে চলে আসতে পারেন। বিশেষ করে গর্ত এড়াতে মোটরসাইকেল বা রিকশা হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে পারে। তাই আশপাশের যানবাহনের গতিবিধির দিকে সবসময় নজর রাখুন।

তবে রাস্তার খানাখন্দ এড়িয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর জন্য বেশি গতিতে বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালালে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তা কাটা বা খারাপ দেখলেই গতি কমানো, পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখা এবং সামনে রাস্তার অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কেএসকে