প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বোর্ডে লিড জমা হয়েছে ২২৮ রান। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে এখন পর্যন্ত দারুণ লড়াই করলো বাংলাদেশ।

শেষ ব্যাটার হিসেবে এবাদত হোসেনকে আউট করেছেন জশ হ্যাজেলউড। ৭ রান করে তিনি অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ক্যাচ দিলে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট পেয়েছেন হ্যাজেলউড। ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বোর্ডে এক রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৩০০তম উইকেট পূর্ণ করেন জশ হ্যাজেলউড। ৬৫ রান করে আউট হয়েছেন মিরাজ।

উইকেট হারালেও তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটা ভালোই পার করে বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় দিন ২৯৭ রানে ৩ উইকেট থেকে ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশ। দলীয় ৪০০ ও ২০০ রানের লিডের স্বপ্ন ফিকে হতে থাকে বাংলাদেশের। কিন্তু তৃতীয় দিনে এসে দুটোই পূর্ণ করে নেয় বাংলাদেশ দল।

দর্শক ও সমর্থকদের মনের আশা পূরণ করে ২০০ রানের লিড আদায় করার পর ১২৮.১ ওভারে দলের বোর্ডে যোগ হয় ৪০০ রানের সংগ্রহ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মিচেল স্টার্কের করা ১২৬তম ওভারে শেষ বলে ২ রান নিয়ে মিরাজ তার টেস্টে ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি তুলে নেন। পাঁচ চারে সাজিয়েছেন ১১৭ বলের ইনিংসটি।

দিনের শুরুতে ১৩.৫ ওভারে জশ হ্যাজেলউড আউট করেন হাসান মাহমুদকে। তার দারুণ বল সোজা হাসানের প্যাডে আঘাত করে। আম্পায়ার আউট দিলে তিনি রিভিউ নেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি। ১৪ রান করা হাসানের বিদায়ে ৩৫৪ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর হ্যাজেলউড ফেরান ১৭ রান করা তাইজুল ইসলামকেও। গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। হ্যাজেলউড পেলেন তার ২৯৯তম টেস্ট উইকেট। বোলিংয়ের অ্যাঙ্গেল বদলানোর সিদ্ধান্ত কাজে দিল। ওভার দ্য উইকেট থেকে ভালো লেন্থের বল করেন তিনি। তাইজুল ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের মোটা প্রান্তে এজ দেন, সেটি সামনে মুখ বরাবর থাকা গ্রিনের হাতে জমা পড়ে।

এর আগে, তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা ১৫৩ রানের লিড নিয়ে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান।

শেষের দিকে মিরাজ-হাসানের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছেন। তবে বাংলাদেশ ইনিংসের মূল ভিত গড়ে দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত।

তানজিদ তামিম সেঞ্চুরি করলেও অবশ্য তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি শান্ত। শান্ত আউট হওয়ার পরই হঠাৎ ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ১১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা।

দ্বিতীয় দিন ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক আর তানজিদ হাসান তামিম প্রথম ঘণ্টার ভয় অনায়াসে কাটিয়ে দেন।

দারুণ খেলছিলেন মুমিনুল। কিন্তু ১ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মিস করে বসেন। জশ হ্যাজেলউডের বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৯৫ বলে মুমিনুলের ৪৯ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি চারের মার।

তবে ভুল করেননি তামিম। মুমিনুল হককে নিয়ে ১০৩ রানের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৯৩ রানের আরেকটি বড় জুটি গড়েন দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা এই ওপেনার।

সেঞ্চুরির পর অবশ্য ইনিংস আর বড় করতে পারেননি তানজিদ তামিম। বড় শট খেলতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। ১৯৭ বলে তার ১০১ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৮ চার আর ১ ছক্কার মার।

শান্তরও সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি করার। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৪ রানের জশ হ্যাজেলউডের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ১২৬ বলের ইনিংসে ৭টি চার এবং একটি ছক্কা হাঁকান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

শান্ত ফেরার পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস ০ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিচেল স্টার্কের বলে, পরের ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে একইভাবে আউট মুশফিকুর রহিম (৩৬)।

এরপর দলের হাল ধরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর হাসান মাহমুদ। মিরাজ ৭৩ বল খেলে করেছেন ৩২ রান। হাসান মাহমুদ ১৩ রান করতে কাটিয়ে দিয়েছেন ৭৬ বল! এই যুগলের প্রতিরোধে তৃতীয় দিনে লিড আরও বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

আইএন