সম্প্রতি এক অনলাইন লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়েখ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুন্নতসম্মত কেরাত কোনগুলো?

উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন,

ফজরের নামাজে নবীজি (সা.) সাধারণত তিওয়ালে মুফাসসাল অর্থাৎ একটু দীর্ঘ সুরাগুলো তিলাওয়াত করতেন। হাদিসের ভাষায়, মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ফজরের নামাজে তিওয়ালে মুফাসসাল পড়তেন। কখনো কখনো জোহরের নামাজেও এমন দীর্ঘ সুরা পড়তেন। জোহরের নামাজে মাঝে মাঝে মধ্যম কলেবরের সুরাগুলোও তিলাওয়াত করতেন, যেগুলোকে হাদিসে 'আওসাতে মুফাসসাল' বলা হয়েছে।

আসর ও ইশার নামাজে তিনি সাধারণত মধ্যম কলেবরের সুরাগুলোই পড়তেন। আর মাগরিবের নামাজে সবচেয়ে ছোট সুরাগুলো তিলাওয়াত করতেন, যেগুলোকে 'কিসারে মুফাসসাল' বলা হয়।

সুতরাং, ফজর ও জোহরে সবচেয়ে দীর্ঘ সুরাগুলো, আসর ও ইশায় মধ্যম ধরনের সুরাগুলো এবং মাগরিবের নামাজে সবচেয়ে ছোট সুরাগুলো পড়াই হলো সুন্নত। তবে জোহরের নামাজে কখনো কখনো মধ্যম মাপের সুরাও পড়া যেতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক পরিস্থিতির নিয়ম।

কখনো কখনো নবীজি এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অন্য যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো পরিমাণ পাঠ করেছেন বলেও সাব্যস্ত হয়েছে। তবে সচরাচর এবং বেশিরভাগ সময় এই ক্রমটি মেনে চলা উত্তম ও সুন্নতসম্মত।

এখন 'তিওয়ালে মুফাসসাল' কিংবা 'আওসাতে মুফাসসাল'-এর পরিমাপ কী? এ সম্পর্কে মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, সহিহ ইবনে খুজাইমা ও সুনানে তিরমিজিসহ বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে বর্ণনা এসেছে। সবগুলোকে সামনে রাখলে দেখা যায়, মূলত ৩০ নম্বর পারার সবচেয়ে বড় সুরাগুলোকে তিওয়ালে মুফাসসাল বলা হয়। অনেক ইমাম বলেছেন, তিওয়ালে মুফাসসালের সংজ্ঞা হলো, দুই রাকাতে অন্তত ৪০টি আয়াত তেলাওয়াত করা। ৩০ নম্বর পারার শুরুর দিকের সুরাগুলো পড়লে তা আদায় হয়ে যায়।

মুসনাদে আহমদের একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জোহরের নামাজে সুরা বুরুজ, সুরা লাইল, সুরা তারিক ও সুরা গাশিয়া পড়েছেন। এগুলো মধ্যম কলেবরের আওসাতে মুফাসসালের অন্তর্ভুক্ত। আর ফজর নামাজে তিনি এর চাইতেও দীর্ঘ সুরা তিলাওয়াত করতেন। আবার কোনো কোনো সহিহ বর্ণনায় এসেছে, নবীজি জোহর ও আসরে 'ওয়াস শামসি ওয়াদুহাহা' কিংবা 'ওয়াল লাইলি ইজা ইয়াগশা'-এর মতো মধ্যম মাপের সুরা পড়তেন, আর ফজর নামাজে তার চেয়ে দীর্ঘ সুরা পড়তেন।

এই সুন্নতগুলো মেনে চলা ইমাম সাহেবের জন্য যেমন ভালো, তেমনি আমরা যখন একা ব্যক্তিগত নামাজ পড়ব, তখনও আদায় করার চেষ্টা করব। কারণ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে যেভাবে নামাজ আদায় করতে দেখছ, তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো।

তবে মনে রাখতে হবে, কেবল ৩০ নম্বর পারার নির্দিষ্ট সুরাগুলোই পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনি যদি সুরা নাবা বা সুরা নাজিয়াতের মতো দীর্ঘ সুরার সমপরিমাণ আয়াত কোরআনের অন্য যে কোনো স্থান থেকে তিলাওয়াত করেন, তাহলেও তিওয়ালে মুফাসসালের সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। মূল বিষয় হলো, তিলাওয়াতের পরিমাপটা ঠিক রাখা। জোহরের ক্ষেত্রে সুরা ইনশিকাক, সুরা আ'লা, সুরা গাশিয়া বা সুরা বুরুজের সমপরিমাণ সুরা যে কোনো স্থান থেকে পড়লেই চলবে। আর মাগরিবের জন্য শেষের দিকের ছোট ছোট সুরাগুলো বা এর সমপরিমাণ আয়াত অন্য যে কোনো স্থান থেকে পড়লে সুন্নত আদায় হবে।

সফর অবস্থায় নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাধারণত খুব সংক্ষিপ্ত করে নামাজ পড়তেন। সফরের নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পাঠ করার বিষয়টি প্রমাণিত রয়েছে।

সুতরাং, এই মাপগুলো সাধারণ ও স্বাভাবিক অবস্থায় মেনে চলা সুন্নত। এর ব্যতিক্রম করাটাও নবীজি (সা.) থেকে সাব্যস্ত আছে।

সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

ওএফএফ