নবীজির (সা.) একটি সুন্নত হলো আনন্দের ঘটনায় কৃতজ্ঞতা বা শুকরিয়ার সিজদা। আবু বাকরা (রা.) বলেছেন, কোনো আনন্দের ঘটনা ঘটলে বা কোনো আনন্দের সংবাদ পেলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া প্রকাশের উদ্দেশে সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন। (সুনানে আবু দাউদ)
বর্ণিত আছে সাহাবি কাব বিন মালেক (রা.) তার তওবা কবুল হওয়ার সংবাদ শুনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েছিলেন। (সহিহ বুখারি)
শুকরিয়ার সিজদা দেওয়ার নিয়ম হলো, আল্লাহু আকবার বলে নামাজের মতোই সিজদা করা, সিজদায় তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার ‘সুবাহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ পাঠ করা, তারপর আল্লাহু আকবার বলে বসে বা দাঁড়িয়ে সিজদা শেষ করা।
আরও পড়ুনসিজদা ও রুকুর তাসবিহ
শুকরিয়ার সিজদার শুরুতে নামাজের মতো তাকবিরে তাহরিমা এবং শেষে সালাম ফেরানোর নিয়ম নেই।
শুকরিয়ার সিজদা আদায়ের জন্য কিবলামুখী হওয়া, সতর ঢাকা, পবিত্র হওয়া জরুরি কি না এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। ইমাম ইবনে তায়মিয়াসহ (রহ.) কিছু আলেমের মতে শোকরের সিজদার জন্য সতর ঢাকা, অজু করা, কিবলামুখী হওয়া শর্ত নয়। যেহেতু এটি নামাজ নয়, বরং শুকরিয়া আদায়ের অংশ।
তবে হানাফি ওলামায়ে কেরাম এবং অন্য মাজহাবের অধিকাংশ আলেমদের মতে শোকরের সিজদার জন্য নামাজের মতোই সতর ঢাকা, কিবলামুখী হওয়া, শরীর-পোশাক পবিত্র হওয়া ও অজু-গোসল থাকা জরুরি। কারণ তিলাওয়াত ও শোকরের সিজদা নফল নামাজের মতো, তাই এ সিজদাগুলোর জন্য নামাজের সব শর্ত প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুনশোকরের নামাজ যেভাবে আদায় করবেন
ওএফএফ