চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই বিদেশি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক এবং বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম। সাগরে তীব্র স্রোতের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হলেও জাহাজ দুটির কার্গো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে বলে জানান তিনি। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ দুটিই মার্স আইল্যান্ডের পতাকাবাহী।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল বহনকারী তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইকের সঙ্গে নোঙ্গর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইনের সংঘর্ষ হয়। জাহাজের সবকটি কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কার্গো ট্যাংকে কোনো পানি প্রবেশ করেনি এবং কোনো প্রকার তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ৩৯৩৫ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

এমটি সি স্পাইকের ইঞ্জিনরুমে পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক ১ বর্গমিটার ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করায় সাময়িক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। তবে, ইমারজেন্সি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজের ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। জাহাজটি স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙ্গরের ১০ শ্যাকেল করে ক্যাবল ছাড়া হয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী, ভাটার সময়েও জাহাজটি নিরাপদে ভেসে থাকবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর পরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট ‘কান্ডারী-৮’ এরইমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ট্যাংকার জাহাজটি থেকে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি তেল খালাসের জন্য শিপিং এজেন্টকে ফাটল মেরামত ও উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, এমটি সি স্পাইক জাহাজটি শুক্রবার সকালেই সিঙ্গাপুর থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বাংলাদেশে আসে। জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংয়ের প্রতিনিধি মো. শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, জাহাজের কার্গো কোনো ক্ষতি হয়নি। জাহাজ মেরামতে এরইমধ্যে স্যালভেজ কোম্পানি ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। তারা রাতের মধ্যেই জাহাজটি মেরামতে কাজ শুরু করবে।

অন্যদিকে, এমভি সান শাইন জাহাজটি গত ১ আগস্ট ৫২ হাজার টন গম নিয়ে বাংলাদেশে আসে। জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এশিয়াবাল্ক মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক অঞ্জন মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ এমভি সান শা্ইন গত ১ আগস্ট ৫২ হাজার টনের মতো গম নিয়ে বাংলাদেশে আসে। দুর্ঘটনার পর থেকে জাহাজটির ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। এরইমধ্যে বন্দর, নৌবাহিনী ও কোস্টাগার্ড ঘটনাস্থলে রয়েছে। জাহাজ থেকে ক্যাপ্টেনের আপডেট তথ্য পাওয়ার পর গণমাধ্যমে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এমডিআইএইচ/এএমএ