বর্ষা মানেই বাতাসে বাড়তি আর্দ্রতা, ঘাম আর চিটচিটে ত্বক। এই সময়ে মুখে তেলতেলে ভাব দেখা দিলে অনেকেই মনে করেন, বাতাসে যেহেতু জলীয়বাষ্প বেশি, তাই ত্বকও নিশ্চয়ই পর্যাপ্ত হাইড্রেশন পাচ্ছে। কিন্তু ত্বকের তৈলাক্ত ভাব আর হাইড্রেশন এক বিষয় নয়। বরং বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়াতেও ত্বকের ভেতরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ফলে একই সঙ্গে ত্বক তৈলাক্ত, টানটান, সংবেদনশীল কিংবা ব্রণপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে।

আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক কেন বেশি তৈলাক্ত লাগে?

বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম সহজে শুকাতে চায় না। একই সঙ্গে ত্বকে তৈরি হওয়া সিবাম বা প্রাকৃতিক তেলও ত্বকের উপর বেশি সময় ধরে জমে থাকে। ঘাম, সিবাম, ধুলোবালি, দূষণ ও মেকআপ একসঙ্গে মিশে গেলে রোমকূপ বন্ধ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ফলে বিশেষ করে তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড কিংবা ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে মুখে তেলতেলে ভাব থাকলেই ত্বক হাইড্রেটেড-এমনটা ভাবা ঠিক নয়। সিবাম মূলত ত্বকের উপরিভাগে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। অন্যদিকে হাইড্রেশন বলতে ত্বকের কোষে পানির উপস্থিতিকে বোঝায়। তাই ত্বকের উপরিভাগ তৈলাক্ত হলেও
ভেতরে পানির ঘাটতি থাকতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে

তৈলাক্ত ত্বক মানেই হাইড্রেটেড নয়

ত্বকে অতিরিক্ত তেল থাকার কারণে অনেকেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কিন্তু এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার না ব্যবহার করলে স্কিন ব্যারিয়ারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ফলে ত্বকে টানটান ভাব, শুষ্কতা কিংবা সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।

তাই এই সময় লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বককে একেবারে তেলশূন্য করা নয়; বরং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখা।

বারবার মুখ ধুলে ক্ষতি

মুখ চিটচিটে লাগলে বারবার পানি বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত ক্লিনজিং ত্বকের প্রাকৃতিক তেল সরিয়ে দিতে পারে এবং স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল করতে পারে। এতে ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ার পাশাপাশি
শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়াও বাড়তে পারে।

তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে দুবার মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করাই যথেষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা শক্তিশালী ক্লিনজার ব্যবহারের বদলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোমল ক্লিনজার বেছে নেওয়া ভালো।

শুধু মুখ নয়, শরীরের ত্বকেও বাড়তি যত্ন

বর্ষার গরম ও আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ ঘাম জমে থাকলে শরীরের ত্বকেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, স্তনের নিচের অংশ বা শরীরের অন্যান্য ভাঁজে আর্দ্রতা আটকে থাকলে ফাঙ্গাল সংক্রমণ বা ঘামজনিত র‍্যাশের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ভেজা পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা কিংবা ঘামে ভেজা ব্যায়ামের পোশাক না বদলানোও সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ঘাম হলে দ্রুত পোশাক বদলে শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি।

বর্ষায় অ্যাকটিভ স্কিনকেয়ার কি বন্ধ করতে হবে

বর্ষা এলেই অ্যাকনে ট্রিটমেন্ট, এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড বা অন্যান্য অ্যাকটিভ উপাদান পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং, অ্যাসিড, অয়েল-কন্ট্রোল প্রোডাক্ট বা অ্যাকনে ট্রিটমেন্ট একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা ও সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। নতুন কোনো অ্যাকটিভ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধীরে শুরু করা এবং ত্বকের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা ভালো। ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালা, লালচে ভাব বা ব্রণ বাড়তে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বর্ষার উপযোগী সহজ স্কিনকেয়ার রুটিন

বর্ষায় স্কিনকেয়ার যতটা সম্ভব সহজ রাখা ভালো। ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এরপর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে না থাকলেও দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

অফিস, গাড়ি কিংবা ঘরে দীর্ঘ সময় এসির মধ্যে থাকলেও ত্বকের পরিবেশ বদলে যায়। বাইরে আর্দ্র আবহাওয়া থেকে এসির শুষ্ক পরিবেশে বারবার যাতায়াত করলে ত্বকে শুষ্কতা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই শুধু বাইরের আবহাওয়ার দিকে না তাকিয়ে ত্বকের প্রকৃত অবস্থাও বুঝতে হবে।

আরও পড়ুন

মুলতানি মাটি ত্বকের জন্য ভালো নাকি বাড়াতে পারে সমস্যা

তৈলাক্ত ভাব কমানো চেয়ে ভারসাম্য রাখাই লক্ষ্য

বর্ষায় ত্বক চকচকে বা তৈলাক্ত দেখালেই সেটিকে একেবারে ম্যাট করে ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়। কারণ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল এবং পানির ভারসাম্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ক্লিনজিং বা তেল শোষণকারী পণ্য ব্যবহারের বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার করা, হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

আরও পড়ুন

খুশকি বাড়ার পেছনে দায়ী হতে পারে আপনার প্রিয় হেয়ার অয়েল

সূত্র: বিউটিফুল ইন্ডিয়া, ফেমিনা, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেয়াই